আসানসোলে ২৯শে মার্চের সভার রিপোর্ট ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির প্রস্তাবনা

May 8, 2015

সভার বিষয় ছিল ‘মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে আর কত কোলিয়ারি দরকার?’

by ADHIKAR

২৯ শে মার্চ, ২০১৫, অধিকার আয়োজিত আলোচনা সভার বিষয় ছিল ‘মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে আর কত কোলিয়ারি দরকার?’ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল আসানসোলের বার অ্যাসোসিয়েশানের হলে। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪.৪০ পর্যন্ত আলোচনা চলে। উপস্থিত হয়েছিলেন কোলিয়ারিতে কর্মরত বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন- কোলিয়ারি মজদুর সভা অফ ইন্ডিয়া(CITU) , IFTU, ইস্কো মজদুর ইউনিয়ন, ICML শ্রমিক ইউনিয়ন, AIFTU, অল ওয়েষ্টবেঙ্গল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউনিয়ন, মজদুর সংগ্রাম সমিতি, নিউ ট্রেড ইউনিয়ন ইনিসিয়েটিভ। এছাড়া আসানসোল সিভিল রাইটস অ্যাসসিয়েসান, দুর্গাপুরের জন অধিকার মঞ্চ, দলিত ও সংখালঘু মঞ্চ, এলাহাবাদ, হাজারীবাগ ও রাজমহল থেকে আজাদি বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিনিধি, বীরভুমের খাগড়া জয়দেব কোলব্লক অধুষিত এলাকা লোবার কৃষিজমি রক্ষা কমিটি, গঙ্গারামচক কোল ব্লকের এলাকার সগরভাঙ্গা কৃষি কল্যান সমিতি, দিউচা-পাচামি কোল ব্লকের এলাকার আদিবাসি সংগঠন এবং রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন মানুষ। তাছাড়া মন্থন সাময়িকির সমিক, শ্রমশক্তি পত্রিকার সঞ্জয়পাঠক এবং সুখেন্দু ভট্টাচার্য সহ বেশকয়েকজন সমাজ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন আসানসোল সিভিল রাইটস অ্যসোসিয়েসনের স্বাতী ঘোষ।

অধিকারের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরুর জন্য চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়।

আমাদের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে আর কত কয়লা খনি দরকার?

যেটুকু কয়লা দরকার তার জন্য দূষণ সৃষ্টিকারী এবং ব্যপক পরিমাণ সামাজিক ক্ষতি সৃষ্টিকারী খোলামুখ কয়লাখনি বন্ধ করে কম ক্ষতিকারক কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি কি হবে?

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছে ভারতবর্ষে এমন কোনো আইন নেই যার বলে সরকার বা রাষ্ট্র মাটির তলার খনিজের উপর মালিকানা দাবি করতে পারে। তাই জমির মালিকই নীচের খনিজ সম্পদের মালিক। যে খনিজ সস্পদের মালিক সরকার নয় সে কোন অধিকারে সেই খনিজ সস্পদ নিলাম করতে পারে?

প্রয়াত হারাধন রায়ের করা কেস-এর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট আসানসোল রাণিগঞ্জ খনি অঞ্চলের ধ্বস আগুন প্রবণ এলাকা থেকে পুনর্বাসনের যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার বাস্তব রূপায়ণ কিভাবে হবে।

আলোচনার শুরুতে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের মানুষেরা তাদের সমস্যার কথা বলেন। যে সমস্যা গুলো তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে সংক্ষেপে সেগুলি হল-

১। বর্তমানে একটার পর একটা মাটির তলার খনি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার একর বা কোথাও হাজার হাজার হেক্টর জুড়ে ওপেন কাষ্ট মাইন বা খোলামুখ কয়লা খনি হচ্ছে।

২। ভারি মাটিকাটার যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে খুব অল্প সময়ে প্রচুর পরিমান কয়লা ওপেন কাষ্ট মাইন থেকে তুলে আনা যায়। এখন খোলামুখ পদ্ধতিতে মাটির অনেক গভীর থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিটার গভীরতা থেকে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক উপায়ে কয়লা তোলা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমিক দরকার হয় খুব কম। তার ফলে খোলামুখ খনির কারণে যত জীবিকা নষ্ট হচ্ছে সেই পরিমাণ জীবিকার সংস্থান খোলামুখ খনি করতে পারছে না।চাষের জমি অনন্তকাল ধরে জীবিকার সংস্থান করবে। একটা সময়ের পর কয়লা ফুরিয়ে যাবে। কয়লা ফুরিয়ে গেলে কয়লা সমৃদ্ধ অঞ্চলের আর কোনো জীবিকার সংস্থান থাকবে না। এলাকাটা শ্মশানে পরিনত হবে।

৩।খোলামুখ খনির জন্য মাটির উপরের সব কিছু ধ্বংস করে একদিকে উঁচু হচ্ছে ওভারবার্ডেনের পাহাড় এবং গভীর হচ্ছে পুকুরখাদ। খোলামুখ খনির কারনে ধ্বংস হচ্ছে মানুসের বসতি এলাকা, মাটির উপরের জীবজগৎ। মাটিতে গভীর গর্ত হয়ে যাবার ফলে কয়লা খাদান অঞ্চলের সমস্ত জলের উৎস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। ওভারবার্ডেন দিয়ে খাদ ভরলেও মাটির চরিত্র স্থায়ীভাবে বদলে যাবার ফলে কৃষির অযোগ্য হয়ে পড়চ্ছে। আসানসোল অঞ্চলের ২০০০ বছরের গ্রাম ধংস হচ্ছে, তার সাথে এই গ্রাম গুলোর নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন গুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

৪। বহু ক্ষেত্রেই খোলামুখ খনি কোন নিয়ম নীতি না মেনে করা হচ্ছে। বসতি এলাকা, রাস্তা, স্কুল থেকে অন্তত ৩০০ মিটার দূরে ব্লাষ্টিং হবার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাত্র ১০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে ব্লাষ্টিং হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ব্যস্ত রাস্তাঘাটও মানা হচ্ছে না।পাথর এসে গ্রামে ছিটকে পড়ছে তখন গ্রামের মানুষ নিজে থেকে বলছে আমি উঠে যাব। এই ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামটি তখন কোল কোম্পানির দেওয়া যে কোনো শর্ত মানতে বাধ্য হচ্ছে।

৫। ভারতের প্রথম বেসরকারি কয়লা খনি গোয়েঙ্কাদের সরিষাতলি খোলামুখ খনিতে কম মজুরিতে শ্রমিকদের খাটান হয়। কাজের কোণো নিরাপত্তা নেই। জমিহারা শ্রমিকরা চুক্তি অনুসারে কোল কোম্পানির অধিনে সরাসরি কাজ করেন না। তারা এই কোলয়ারির কয়লা উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকা সংস্থার অধিনে কাজ করেন।

৬। খোলামুখ খনি চালু হওয়ায় ছোটরা লেখাপড়া ছেড়ে খোলামুখ খনি থেকে কয়লা চুরির কাজে নেমে পড়েছে। খোলামুখ খনিতে জল জমে যায়। একবার এক মাঝির ছেলে কয়লা চুরি করতে ঢুকেছিল, সিআইএসএফ তাকে তাড়া করে, সে জলে পড়ে মারা যায়। তারপর এলাকার লোকের চাপে সেই খোলামুখ খনি বন্ধ হয়ে যায়।

৭। খোলামুখ খনিতে কাজ করে সব ঠিকা শ্রমিক যাদের অত্যন্ত কম মজুরি দেওয়া হয়।

৮। মাটির তলার খনির জন্যও নষ্ট হয়েছে অনেক গ্রাম, জনপদ, চাষের জমি। ২৫০ বছ্রেরর কয়লা খননে রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চল ধ্বসপ্রবন এলাকায় পরিনত হয়েছে। ঝরিয়া এবং রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলের ধ্বসপ্রবন এলাকার মানুষদের সঠিক পূর্ণবাসনের জন্য প্রাক্তন সাংসদ হারাধন রায় সুপ্রিম কোর্টে একটা কেস ফাইল করেন। এই মামলায় ১৩৯টি জায়গা ধ্বসপ্রবন এলাকা বলে চিহ্নিতকরন করা হয়। মামলার রায়ে ২৬১০.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় ধ্বস প্রবন জায়গার মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেবার জন্য। বর্তমানে সেই টাকার পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মত। আজও তারা ক্ষতিপূরণ পায় নি। উপরন্তু ২০১৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোল কোম্পানি ইসিএল – এর হেড অফিসের এলাকার সাঁকতোড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ির রান্নাঘর ধ্বসের কারণে বসে যাওয়ায় একটি মেয়ে মাটির তলায় চলে গিয়ে মারা যায় ।

৯। অজয় ও দামোদর নদীর ধার বরাবর যথাক্রম বীরভূম ও বর্ধমান সীমান্ত এবং বাঁকুড়া ও বর্ধমান সীমান্তে মোট ২১টি কয়লা ব্লকের জন্য উচ্ছেদ হবেন বহু মানুষ এবং নষ্ট হবে হাজার হাজার একর কৃষিজমি। এই কৃষিজমির অনেকটা অংশ সেচসেবিত এলাকা।

১০। বাঁকুড়ার মেজিয়ার অর্ধগ্রাম কোল ব্লকে শ্যাম স্টিল নামক প্রাইভেট মালিকের খোলামুখ খনিতে রাতে ব্লাস্টিং করে গ্রামের মানুষকে অতিষ্ট করে তুলেছিল। আশেপাশের কৃষিজমিগুলো ধূলোর দাপটে প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। শাসক দল ঘনিষ্ঠ জনা পঞ্চাশেক গুণ্ডা গ্রামের মধ্যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। তার সাথেই ছিল চোরাই কয়লাখনি। সেখানে প্রতিদিন লোক মারা যাচ্ছিল।

১১।বীরভুম জেলার লোবাতে ডিভিসির কোল ব্লক এলাকায় এবং এমটার গঙ্গারামচক কোলিয়ারিতে সঠিক ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণবাসনের দাবিতে কৃষিজমি রক্ষাকমিটির আন্দোলনের কথা আলোচনা হয়।

১২।পাঁচামির পাথর খাদানের বর্তমান সমস্যার পাশাপাশি কয়লাখনির বিপদের কথাও উঠে আসে।

১৩। কয়লা শিল্প বেসরকারিকরণ করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কয়লাশিল্পের স্থায়ী শ্রমিক, ঠিকা শ্রমিক সহ পুরো সমাজ। আলোচনায় একথা বলেন একজন ঠিকাশ্রমিক।

১৪। বর্তমানে দেশের ২০৪ টি কয়লা বল্ক বা ৫০ হাজার মিলিয়ন টন কয়লা সম্পদ নিলাম করে তুলে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি মালিকের হাতে। ভারতের কয়লা সমৃদ্ধ এলাকার ৯০ শতাংশ আদিবাসী-প্রধান অঞ্চল। তাই কয়লা বল্ক অঞ্চল বেশিটাই মধ্যভারতের পাহাড় জঙ্গল ঘেরা আদিবাসী এলাকা।

এই সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত ইউনিয়নের নেতা সৌমেন্দু,মুক্তেশ ঘোষ, বিবেক রায়চৌধুরি, সোমনাথ চাটার্জী , বিয়াস তিওয়ারী , শৈলেন ভর্চার্য , ডি, ডি, মুখার্জী ও বিভিন্ন সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মীরা তাদের মতামত রাখেন।

বেশ কয়েকজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বলেন তারা আলোচনা সভার হেডিং-এর সাথে একমত নন।কারো মতে আমাদের এখনো অনেক কয়লাখনি প্রয়োজন।কারণ মজুরি শ্রমিকের প্রয়োজনে বা reserve working force এর জন্য শিল্পের দরকার। এই আসানসোল দুর্গাপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কয়লা শিল্পের হাত ধরে হয়েছে।কেউ বলেছেন পুঁজিবাদি ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক সম্পদের দখলদারি বেসরকারি মালিকের হাতে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক এবং শ্রেণী সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই এর সমাধান সম্ভব।

আবার মুক্তেষ ঘোষ সহ অনেকের কথায় উঠে আসে কয়লা বা অন্যান্য খনিজ সম্পদ সত্যি সত্যি কার প্রয়োজনে লাগছে? বক্সাইটের প্রয়োজন যুদ্ধের অস্ত্র তৈরি করার কাজে।ঠিক যতটুকু কয়লা প্রয়োজন ততটুকুই কয়লা উত্তলন হওয়া দরকার। পুঁজির মালিকদের প্রয়োজনের কোনো শেষ নেই। টাটা , বিড়লারা কত টাকা করার পর থামবে। আর যতদিনে শ্রেণী সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে শ্রমিক শ্রেণী ক্ষমতা দখল করবে ততদিন উচ্ছেদ হওয়া মানুষ গুলোর কি হবে? আলোচনায় বেআইনি খাদানে দূর্ঘটনার তদন্তে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ধ্বস কবলিত এলাকার বিষয়ে হারাধন রায়ের কেসটি চালানর কথা বলা হয়।

আমাদের আর কয়লাখনি দরকার নেই – এই কথা বলেন ইকোলজিষ্ট দেবল দেব।অনাবশ্যক বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে ফেল্লেই বিদ্যুতের প্রয়োজন অনেক কমিয়ে ফেলা যায়।যেমন যতটা সম্ভব সূর্য্যের আলো ব্যবহার করতে পারার বা ঘর ঠান্ডা রাখার মত আর্কিটেকচার ব্যবহার করে ঘর বানাতে পারলে এসির দরকার হয় না। তাছাড়া নবীকরণ যোগ্য বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়ানো দরকার।সারা পৃথিবীতে নবীকরণ যোগ্য শক্তির ব্যবহার বেড়েছে। তিনি sustainable ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের কথা বলেন। অর্থাৎ আজ বা বহু হাজার বছর ধরে মানুষ যে প্রাকৃতিক সম্পদ যতটা ব্যবহার করছে পরবর্তী প্রজন্ম একই ভাবে সেই সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা জনগোষ্ঠির হাতে থাকা দরকার কারণ তারাই প্রাকৃতিক সম্পদের sustainable ব্যবহার জানে।

‘আজাদি বাঁচাও আন্দোলন’-এর হাজারিবাগের মিথিলেশ কুমার ডাঙ্গে বললেন, সরকার যে কয়লা ব্লক নিলাম করছে — সরকার কি এই কয়লা ব্লকগুলির মালিক? সুপ্রিম কোর্ট ৮ জুলাই ২০১৩ সালের একটি রায়-এ জানায়, রাষ্ট্র নয়, জমির নিচের খনিজ সম্পদের মালিক ওই জমির মালিকানা যার, তারই। হাজারিবাগে বেশ কয়েকটি কয়লা ব্লক নিলাম করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তারা তো মালিক নয়, তাহলে তারা নিলাম করার কে? হাজারিবাগের একটি কয়লা ব্লক এলাকায় গ্রামসভা কয়লা ব্লকএর মালিক NTPC কে কার্যত তাড়িয়ে দেয়। সেখানকার গ্রামসভা নিজেরা কয়লা খনি চালাবার সিদ্ধান্ত নেয়।

সমস্ত আন্দোলনের উপর রাষ্ট্রের সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার কথা সুখেন্দু ভট্টাচার্যের আলোচনায় উঠে আসে।

আলোচনার শেষে অধিকারের পক্ষ থেকে দুটি প্রস্তাব রাখা হয়।প্রস্তাব দুটি হল-
১। এই আলোচনা করার জন্য একটা দিন যথেষ্ট নয়। এই আলোচনা ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাওয়া দরকার।
২। রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলে অতিতের কয়লাখননের জন্য এবং বর্তমান কয়লা খননের কারনে তৈরি হওয়া সমস্যা গুলো নিয়ে একটি বিশদ সমীক্ষা হওয়া দরকার।

সেই দিনের আলোচনা এখানেই শেষ হয়।

রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলের ইতিহাস ২৫০ বছরের। তাই এই অঞ্চল, এই অঞ্চলের মানুষ এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন মানুষ ও সংগঠন গুলোকে ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কর্মসুচী গ্রহন করতে হবে। এর জন্য একটা দিনের আলোচনার যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে আর কত কোলিয়ারি প্রয়োজন , বা কোন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে এই নিয়ে আমাদের মধ্যে বিতর্ক চলবে। তবে এই মূহুর্তে রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলে কয়লা খননের কারনে তৈরি হওয়া সমস্যা গুলো নিয়ে যৌথ কর্মসূচি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই জন্য দরকার এই অঞ্চলে কর্মরত বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, বিভিন্ন সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মীদের নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার। পরবর্তী আলোচনার জন্য নিচে কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হল।

১। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ২৬টি চালু ও প্রস্তাবিত ৬টি ওপেন কাষ্ট মাইনসের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ সমস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও সঠিক পূণর্বাসন দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ সমস্ত মানুষ সহ এই এলাকার মানুষের স্থায়ী বা দীর্ঘকালীন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

২। ওপেন কাষ্ট মাইনসের বিপদ সম্বন্ধে সকলকে সচেতন করতে হবে।

৩। রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলে প্রায় ১০০০ মিটার পর্যন্ত উন্নত মানের কয়লা সম্পদ আছে। ওপেন কাষ্ট মাইনসের ক্ষেত্রে মাত্র ৩০০ মিটার পর্যন্ত কয়লাতোলা সম্ভব। কিন্তু ওপেন কাষ্ট মাইন হলে নীচের কয়লা সম্পদ তুলে আনা সম্ভব হবে না। তাছাড়া খোলামুখ খনি বা ওপেন কাষ্ট মাইনসে কর্মসংস্থান খুব কম হয়। আইন মেনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটির তলার খনি পারে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কম সামাজিক ক্ষতি স্বীকার করে বেশি পরিমান কয়লা তুলে আনতে। তাই ওপেন কাষ্ট মাইন বন্ধ করে শ্রম নীবিড় মাটির তলার খনি থেকে কয়লা উৎপাদন করতে হবে।

৪। রাষ্ট্রের অধিনে খুব দ্রুত খোলামুখ খনি থেকে এবং বেসরকারি হাতে ২১টা বা তার অধিক কোল ব্লক এলাকা থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে কয়লা তোলা হয়ে যাবে। ইসিএল ভবিষতের জন্য মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা করছে। রাণীগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলের কয়লা সম্পদ শেষ হতে খুব বেশী দিন লাগবে না। তার ফলে এই অঞ্চলে কয়লাকে কেন্দ্র করে জীবিকার সংস্থান প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে।

৪। যে অঞ্চলগুলোতে এই মূহুর্তে ধ্বস ও আগুনের কারনে জীবনহানীর সম্ভাবনা আছে তাদের চিহ্নিত করে সঠিক পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পূণর্বাসনের ক্ষেত্রে এই সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৫। সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে জমির মালিকই নীচের খনিজ সম্পদের মালিক। কোন ব্যক্তি মালিকের জমিতে বা জনগোষ্টির অধিনে থাকা অঞ্চলে কোলিয়ারি হবে কিনা তা কে ঠিক করবে? যে খনিজ সস্পদের মালিক সরকার নয় সে কোন অধিকারে সেই খনিজ সস্পদ নিলাম করতে পারে?
পাশাপাশি আমাদের এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার সত্যি সত্যিই কতটা কয়লা প্রয়োজন এবং কয়লাকে কেন্দ্র করে কতটা জীবিকা নষ্ট হচ্ছে ও পরিবর্তে কত জীবিকার সংস্থান হচ্ছে।

এই বিষয়ে পরবর্তি মিটিং ১৪ ই মে, ২০১৫।

ADHIKAR is a organisation For Labour’s Rights, Movement, Labour Research & Social Welfare, Asansol